ঋতুচক্র বা মাসিক সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন

0
33

মাসিক ঋতুচক্র

 

মাসিক ঋতুচক্র (Menstruation) মেয়েদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রথমেই আমাদের জানা উচিত সাধারণত মেয়েরা কোন বয়সে ঋতুমতী বা সাবালিকা হয়ে থাকে।

 

সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মেয়েরা একটু আগেই ঋতুমতী হয়ে থাকে। ১১ বছর থেকে শুরু করে ১৪ বছরের মধ্যেই বেশিরভাগ মেয়ের ঋতুচক্র শুরু হয়ে থাকে। আর ৪০ থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ঋতু চলতে পারে। তবে ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যেই সাধারণত ঋতু বন্ধ বা মেনোপজ (Menopause) হয়ে থাকে। এ সময়টিও মেয়েদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শীতপ্রধান দেশের মেয়েরা সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সে প্রথম ঋতুমতী হয়ে থাকে।
যদি কোনো কারণে দেখা যায় যে ১৫ বছর বয়সের পরও কোনো মেয়ে ঋতুমতী হচ্ছে না, তাহলে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।
আবার সন্তান ধারণের সময় মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকে এটা স্বাভাবিক নিয়ম। যদি সন্তান ধারণকালে মাসিক শুরু হয়, তৎক্ষণাৎ একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
মাসিক সাধারণত ২৮ দিন অন্তর অন্তর হয়। কারো কারো ৩০/৩৫/৪০ দিন অন্তর হয়। সাধারণত ৪/৫ দিন স্থায়ী থেকে বন্ধ হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ দিন হয়ে বন্ধ হয় আবার কারো ক্ষেত্রে ৭ দিন হয়ে বন্ধ হয়। ৪/৫ দিন স্থায়ী ঋতুই স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।

ঋতুচক্র শুরুর কারণ

 

 

কৈশোর থেকে যখন কোনো মেয়ে নারীত্বে পদার্পণ করে তখন কিছু শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর এর পেছনে রয়েছে পিটুইটারি গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস অন্যান্য গ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত করে। তাই কৈশোরের শেষে পিটুইটারির পরিচালনায় থাইরয়েড, ওভারি গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ শুরু হয়। ওভারির অপরিণত ডিম্বকোষগুলো এ সময় পরিণত হয়ে ওঠে এবং তারা ইসট্রোজেন নামে এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত করে। এ হরমোনের প্রভাবে মেয়েদের মধ্যে নারীসুলভ লাবণ্য লক্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং মেয়েদের যৌন অঙ্গাদি ঠিকভাবে গঠিত হয়।

যৌবনের শুরুতে পিটুইটারির নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার করে একটি পরিণত ডিম্বকোষ ওভারি থেকে বেরিয়ে পড়ে। এটি ঘটে ঋতুচক্রের ১০/১৫ দিনের মধ্যে। অতঃপর গর্ভনালী বেয়ে ডিম্বকোষটি চলে যায় জরায়ুতে।
ডিম্বকোষটি বেরিয়ে যাওয়ায় ওভারিতে সৃষ্টি হয় একটি হলুদ রঙের তরল পদার্থ। এ থেকেই ‘প্রজেসটেরোন’ নামে এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়ে জরায়ুর বৃদ্ধি ও নিয়মিত মাসিকের সূত্রপাত ঘটায়।

 

জরায়ুর ভেতরের গায়ে শ্লেষ্মা ঝিল্লির আবরণে ‘ইসট্রোজেন’ ও ‘প্রজেসটেরোনের’ সম্মিলিত ক্রিয়া শুরু হয়। সেই ঝিল্লির বিবর্তনের ফল ঋতুস্রাব। ইসট্রোজেন ও প্রজেসটেরোনের প্রভাবেই ২৮ দিন অন্তর চক্রাকারে পরিবর্তনের ফলে হয় নিয়মিত মাসিক ঋতুস্রাব।

 

তবে সন্তান সম্ভবা মেয়েদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটে। যৌন মিলনের পর পুরুষের শুক্রাণু ডিম্বকোষটির সঙ্গে মিলিত হলে ডিম্বকোষের সে অবস্থাকে বলা হয় ‘উর্বর ডিম্ব’।সাধারণত শুক্রকীট ও ডিম্বের মিলন ঘটে ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যে এবং সেখান থেকে উর্বর ডিম্বটি চলে যায় জরায়ুতে এবং ২৮০ দিন থাকার পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এ সময়ের মধ্যে ডিম্বাশয়ে আর ডিম্ব প্রস্ত্তত হয় না। ফলে ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে এবং সন্তান সৃষ্টির কাজ চলতে থাকে।

 

মাসিক পূর্ব লক্ষণ

 

মাসিক বা ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পূর্বে দুধরনের সমস্যা (Pre-Menstrual Symptoms) দেখা যেতে পারে। এগুলো হচ্ছে :
ক. শারীরিক লক্ষণ
খ. মানসিক লক্ষণ

 

শারীরিক লক্ষণঃ
১. মাসিক শুরু হওয়ার ২/১ দিন পূর্বে অথবা মাসিক চলাকালীন মাথাব্যথা
২. পিঠে ব্যথা
৩.পেটে ব্যথা
৪. মাথা ঝিমঝিম ভাব
৫.সাইনুসাইটিস
৬.একনি বা মুখে ব্রণ
৭. স্তন ভারি লাগা বা স্তনে ব্যথা
৮.পায়ের গোড়ালির গাঁটে ব্যথা
৯.হাঁটু, ঊরু ইত্যাদির ব্যথা
১০.খাবারে অরুচি
১১.কোমরে ব্যথা

 

মানসিক লক্ষণ
১. হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন
২. টেনশন
৩.অস্বস্তিবোধ
৪. বিষণ্ণতা বা কান্নাকান্না ভাব
৫.মনোযোগের অভাব
৬.আলস্য ভাব
৭. অল্পে রেগে যাওয়া
৮.চুপচাপ বসে থাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here